গতি ও বল (Motion and Force): সরণ, বেগ, ত্বরণ, নিউটনের গতির সূত্র, রৈখিক ভরবেগ, ঘর্ষণ || General Science || RRB Group D

গতি ও বল (Motion and Force) পদার্থবিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য জরুরি ১০০টি বুলেট পয়েন্ট নিচে দেওয়া হলো: 
সরণ, দ্রুতি ও বেগ (Displacement, Speed & Velocity)
  1. অবস্থান: কোনো নির্দেশক বিন্দুর সাপেক্ষে বস্তুর অবস্থান নির্ধারিত হয়।
  2. দূরত্ব: কোনো বস্তু মোট যে পথ অতিক্রম করে তাকে দূরত্ব বলে (স্কেলার রাশি)।
  3. সরণ (Displacement): প্রাথমিক ও অন্তিম অবস্থানের মধ্যে সর্বনিম্ন সরলরৈখিক দূরত্ব (ভেক্টর রাশি)।
  4. একটি বৃত্তাকার পথে একবার ঘুরে এলে সরণ শূন্য হয়, কিন্তু অতিক্রান্ত দূরত্ব পরিধির সমান।
  5. দ্রুতি (Speed): সময়ের সাপেক্ষে দূরত্ব পরিবর্তনের হার (স্কেলার)। একক: m/s।
  6. বেগ (Velocity): সময়ের সাপেক্ষে সরণের পরিবর্তনের হার (ভেক্টর)।
  7. বেগের অভিমুখ সরণের অভিমুখে থাকে।
  8. সমবেগ: যদি কোনো বস্তু নির্দিষ্ট দিকে সমান সময়ে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে।
  9. আলোক রশ্মি শূন্যস্থানে সমবেগে চলে (3 \times 10^8 m/s)।
  10. দ্রুতি কখনও ঋণাত্মক হতে পারে না, কিন্তু বেগ ঋণাত্মক হতে পারে।
ত্বরণ ও মন্দন (Acceleration & Retardation)
  1. ত্বরণ: সময়ের সাপেক্ষে বেগ বৃদ্ধির হার (ভেক্টর)।
  2. ত্বরণের SI একক: m/s^2 (মিটার/সেকেন্ড^2)।
  3. ত্বরণের এককে ‘সেকেন্ড’ কথাটি দুবার আসে (একবার বেগের জন্য, একবার হারের জন্য)।
  4. মন্দন: সময়ের সাপেক্ষে বেগ হ্রাসের হার (একে ঋণাত্মক ত্বরণও বলে)।
  5. সমবেগে চললে বস্তুর ত্বরণ শূন্য হয়।
  6. অভিকর্ষজ ত্বরণ (g)-এর মান পৃথিবীতে গড়ে 9.8 m/s^2।
  7. চাঁদে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান পৃথিবীর প্রায় ১/৬ অংশ।
  8. স্থির অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করলে প্রাথমিক বেগ (u) শূন্য হয়।
  9. ব্রেক কষলে বা বস্তু থেমে গেলে অন্তিম বেগ (v) শূন্য হয়।
  10. গতির সমীকরণ ১: v = u + at (বেগের পরিবর্তন)।
  11. গতির সমীকরণ ২: s = ut + 1/2 at² (অতিক্রান্ত দূরত্ব)।
  12. গতির সমীকরণ ৩: v^2 = u^2 + 2as। [9, 10, 11, 12, 13]
নিউটনের গতির সূত্র (Newton’s Laws of Motion)
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন ১৬৮৭ সালে ‘Principia’ গ্রন্থে তিনটি সূত্র প্রকাশ করেন।
  2. প্রথম সূত্র: বাইরে থেকে বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু চিরকাল সমবেগে সরলরেখায় চলতে থাকবে।
  3. প্রথম সূত্র থেকে জাড্য (Inertia) এবং বলের সংজ্ঞা পাওয়া যায়।
  4. জাড্য: বস্তুর ধর্ম যার ফলে সে নিজের স্থির বা গতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে চায়।
  5. জাড্য দুই প্রকার: স্থিতি জাড্য এবং গতি জাড্য।
  6. বাস হঠাৎ চললে যাত্রী পিছিয়ে পড়ে—এটি স্থিতি জাড্য।
  7. চলন্ত বাস থামলে যাত্রী ঝুঁকে পড়ে—এটি গতি জাড্য।
  8. বস্তুর ভর হলো তার জাড্যের পরিমাপ (ভর বাড়লে জাড্য বাড়ে)।
  9. দ্বিতীয় সূত্র: কোনো বস্তুর ভরবেগের পরিবর্তনের হার প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক।
  10. দ্বিতীয় সূত্র থেকে বলের পরিমাপ (F = ma) পাওয়া যায়।
  11. তৃতীয় সূত্র: প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
  12. ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া দুটি ভিন্ন বস্তুর ওপর কাজ করে।
  13. রকেট উৎক্ষেপণ নিউটনের তৃতীয় সূত্রের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
  14. বন্দুক থেকে গুলি ছুঁড়লে বন্দুক পেছনে ধাক্কা দেয় (প্রতিক্রিয়া বল)।
  15. নৌকা থেকে পাড়ে লাফ দিলে নৌকা পিছিয়ে যায়।
  16. সাতার কাটার সময় জলকে পেছনে ঠেলে দেওয়া হয়। [14, 15, 16, 17, 18]
বল ও ভরবেগ (Force & Momentum)
  1. বল (Force): যা প্রয়োগ করে বস্তুর স্থিতি বা গতি পরিবর্তন করা হয়।
  2. বলের SI একক: নিউটন (N); CGS একক: ডাইন (Dyne)।
  3. ১ নিউটন = 10^5 ডাইন।
  4. ভরবেগ (Momentum): ভর ও বেগের গুণফল (P = mv)।
  5. ভরবেগ একটি ভেক্টর রাশি। SI একক: kg \cdot m/s।
  6. ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র: বাইরে থেকে বল প্রযুক্ত না হলে মোট ভরবেগ অপরিবর্তিত থাকে।
  7. জেট বিমান ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি মেনে চলে।
  8. ঘাত বল (Impulsive Force): খুব বড় মানের বল খুব কম সময়ের জন্য কাজ করলে (যেমন ব্যাট দিয়ে বল মারা)।
  9. বলের ঘাত (Impulse): বল ও সময়ের গুণফল (F \times t)। এটি ভরবেগের পরিবর্তনের সমান।
  10. বলের ঘাতের একক এবং ভরবেগের একক একই।
  11. ক্রিকেটে ক্যাচ ধরার সময় হাত পেছনে নেওয়া হয় বলের ঘাত কমানোর জন্য। [19, 20, 21, 22, 23]
ঘর্ষণ (Friction)
  1. ঘর্ষণ: যখন একটি বস্তু অন্যটির ওপর দিয়ে চলার চেষ্টা করে, তখন স্পর্শতলে গতির বিরুদ্ধে যে বল কাজ করে।
  2. ঘর্ষণ সর্বদা গতির বিপরীত দিকে কাজ করে।
  3. ঘর্ষণ বল তলের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে (অমসৃণ তলে ঘর্ষণ বেশি)।
  4. ঘর্ষণ তিন প্রকার: স্থিত ঘর্ষণ, পিছলানো ঘর্ষণ এবং আবর্ত ঘর্ষণ।
  5. আবর্ত ঘর্ষণ (Rolling Friction): সবচেয়ে কম মানের ঘর্ষণ (চাকা ব্যবহারের কারণ এটিই)।
  6. ঘর্ষণ কমানোর জন্য লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক পদার্থ (তেল, গ্রিজ) ব্যবহার করা হয়।
  7. গ্রাফাইট গুঁড়ো ভারী যন্ত্রে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  8. বল বিয়ারিং ঘর্ষণ কমাতে ব্যবহৃত হয়।
  9. দেশলাই কাঠি জ্বালানো ঘর্ষণের ফলে সম্ভব হয়।
  10. রাস্তায় হাঁটা সম্ভব হয় ঘর্ষণের জন্য।
  11. বরফে ঘর্ষণ খুব কম থাকে বলে হাঁটা কঠিন। [24, 25, 26, 27, 28]
বৃত্তাকার গতি ও অন্যান্য (Circular Motion)
  1. বৃত্তাকার গতি: কোনো বস্তু বৃত্তাকার পথে ঘুরলে তাকে বৃত্তাকার গতি বলে।
  2. অভিকেন্দ্র বল (Centripetal Force): কেন্দ্রের দিকে কাজ করে।
  3. অপকেন্দ্র বল (Centrifugal Force): কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে কাজ করে (একে ছদ্ম বল বলে)।
  4. ক্রিম সেপারেটর বা ওয়াশিং মেশিন ড্রাইয়ারে অপকেন্দ্র বল কাজ করে।
  5. গ্রহগুলির কক্ষপথে ঘোরা অভিকেন্দ্র বলের জন্য সম্ভব হয়।
  6. সাইকেল আরোহী বাঁক নেওয়ার সময় কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে। [29, 30, 31, 32, 33]
বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Miscellaneous)
  1. ঘর্ষণ বল তাপ উৎপন্ন করে।
  2. মহাকাশচারীরা মহাকাশে ওজনে শূন্যতা অনুভব করেন।
  3. অবাধে পতনশীল বস্তুর ত্বরণ সব সময় g হয়।
  4. বায়ুর বাধা না থাকলে পালক ও পাথর সমদ্রুতিতে নিচে পড়বে।
  5. লিফট দ্রুত নিচে নামলে ওজন কম অনুভূত হয়।
  6. লিফট যদি মুক্তভাবে নিচে পড়ে, তবে ওজন শূন্য মনে হবে।
  7. লিফট উপরে ওঠার সময় ওজন বেশি অনুভূত হয়।
  8. বৃত্তাকার পথে চললে দ্রুতি ধ্রুব থাকলেও বেগের পরিবর্তন হয় (অভিমুখ পরিবর্তনের জন্য)।
  9. কেন্দ্রবিমুখী বলের কারণে বাঁক নেওয়া রাস্তা একপাশে উঁচু থাকে (Banking of Roads)।
  10. মেলায় ‘মউত কা কুয়া’ খেলায় অভিকেন্দ্র বল কাজ করে।
  11. একটি ঢিলকে উপরের দিকে ছুড়লে সর্বোচ্চ বিন্দুতে তার বেগ শূন্য হয় কিন্তু ত্বরণ থাকে।
  12. গাড়ি থামানোর জন্য ব্রেক ও চাকার মধ্যে ঘর্ষণ কাজ করে।
  13. পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ির চাকা পিছলে যায় কারণ ঘর্ষণ কমে যায়।
  14. মহাকর্ষ বল একটি আকর্ষণধর্মী বল।
  15. পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে কাজ করে তীব্র নিউক্লীয় বল।
  16. মহাবিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল বল হলো মহাকর্ষ বল।
  17. বস্তুর ভর স্থানভেদে পরিবর্তন হয় না, কিন্তু ওজন হয়।
  18. বস্তুর ওজন সর্বোচ্চ হয় পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে (Pole)।
  19. বস্তুর ওজন সর্বনিম্ন হয় বিষুবরেখায় (Equator)।
  20. পৃথিবীর কেন্দ্রে বস্তুর ওজন শূন্য।
  21. ওজন মাপা হয় স্প্রিং তুলা যন্ত্র দিয়ে।
  22. ভর মাপা হয় সাধারণ তুলা যন্ত্র দিয়ে।
  23. 1 kgwt = 9.8 Newton।
  24. নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রটি আসলে F = d(mv)/dt = ma
  25. যখন বল এবং সরণ একই দিকে হয়, তখন তাকে ‘বলের পক্ষে কার্য’ বলে।
  26. যখন বল ও সরণ বিপরীত দিকে হয়, তখন তাকে ‘বলের বিরুদ্ধে কার্য’ বলে।
  27. সমবেগে চললে বলের মান শূন্য হয়।
  28. কোনো বস্তুর ভর দ্বিগুণ করলে ভরবেগও দ্বিগুণ হবে (যদি বেগ স্থির থাকে)।
  29. টর্ক (Torque) হলো ঘূর্ণন বল।
  30. রকেটের গতি নিউটনের ২য় ও ৩য় সূত্রের সমন্বিত রূপ।
  31. কোনো বস্তুর গতিশক্তি ও ভরবেগের সম্পর্ক: KE = P^2 / 2m।
  32. বল ও সরণের গুণফল হলো কার্য।
  33. বল প্রয়োগ সত্ত্বেও যদি সরণ না হয়, তবে কার্য শূন্য।
  34. পদার্থবিদ্যার জনক বলা হয় স্যার আইজ্যাক নিউটনকে।
error:
Scroll to Top